বিড়ালের নখের আচড় শুধু ব্যথাদায়ক নয়, এটি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণও হতে পারে। বিড়ালের নখের আচরে কি সমস্যা হয় জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কেবল ত্বকের ক্ষতি করে না, বরং ইনফেকশন, অ্যালার্জি এমনকি গুরুতর রোগও ডেকে আনতে পারে। বিড়ালের নখে থাকা ব্যাকটেরিয়া (যেমন Pasteurella multocida) বা ছত্রাক ত্বকের ভেতর প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক বা দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের ব্যক্তিদের জন্য এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব বিড়ালের নখের আচরে কি সমস্যা হয়, এর লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে।
কেন এই বিষয়টি জানা জরুরি?
- বিড়ালের আচড়ে ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ (CSD) হতে পারে
- ক্ষত স্থান ফুলে যাওয়া বা পুঁজ হওয়ার ঝুঁকি থাকে
- সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জটিলতা দেখা দিতে পারে
- বিড়াল প্রেমীদের জন্য সচেতনতাই হলো সর্বোত্তম সুরক্ষা। চলুন জেনে নিই বিড়ালের নখের আচড় থেকে কীভাবে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করবেন।
বিড়ালের নখের আচরে কি সমস্যা হয়
বিড়ালের নখের আঁচড় থেকে সৃষ্ট সমস্যা অনেক বেশি সাধারণ হলেও এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো জানা জরুরি। বিড়ালের নখে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে যা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে নানাবিধ স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ক্ষতস্থানে ইনফেকশন
লক্ষণ: লালভাব, ফোলা, ব্যথা, পুঁজ
সমাধান: অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম লাগান, ডাক্তার দেখান
ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ (Cat Scratch Fever)
লক্ষণ: জ্বর, লসিকা গ্রন্থি ফোলা
সমাধান: সাধারণত নিজে ভালো হয়, প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক
অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন
লক্ষণ: চুলকানি, র্যাশ
সমাধান: অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট
টিটেনাসের ঝুঁকি
লক্ষণ: পেশী শক্ত হওয়া
সমাধান: টিটেনাসের টিকা নিন
ক্ষতস্থানে দাগ পড়া
লক্ষণ: কালো বা লাল দাগ
সমাধান: ভিটামিন ই অয়েল মালিশ করুন
লিম্ফ নোড ফোলা
লক্ষণ: বগল বা গলার গ্রন্থি ফোলা
সমাধান: গরম সেঁক দিন
চোখের ইনফেকশন (যদি চোখে আঁচড় পড়ে)
লক্ষণ: চোখ লাল, ব্যথা
সমাধান: চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখান
সেলুলাইটিস (ত্বকের গভীর ইনফেকশন)
লক্ষণ: ত্বক লাল, গরম ও ফোলা
সমাধান: জরুরি চিকিৎসা নিন
সেপসিস (অতিরিক্ত ইনফেকশন)
লক্ষণ: উচ্চ জ্বর, কাঁপুনি
সমাধান: হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন
মানসিক চাপ (বিশেষ করে শিশুদের)
লক্ষণ: ভয়, দুঃস্বপ্ন
সমাধান: সান্ত্বনা দিন, প্রয়োজনে কাউন্সেলিং
প্রতিরোধের উপায়:
- বিড়ালের নখ নিয়মিত কাটুন
- খেলার সময় সতর্ক থাকুন
- আঁচড় পড়লে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা নিন
- বিড়ালকে নিয়মিত গোসল করান
- বিড়ালের নখের আঁচড়ের কারণে এলার্জি
বিড়ালের নখের আঁচড় শুধু ব্যথাই সৃষ্টি করে না, এটি থেকে ত্বকের অ্যালার্জি বা ইনফেকশনও হতে পারে। বিড়ালের নখে থাকা ব্যাকটেরিয়া তাদের লালার প্রোটিন ত্বকে প্রবেশ করলে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন দেখা দিতে পারে। আসুন বিস্তারিত জেনে নিই:
বিড়ালের নখের আঁচড়ে অ্যালার্জির কারণ
ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ব্যাকটেরিয়া আঁচড়ের মাধ্যমে ত্বকে প্রবেশ করে।
লক্ষণ: জ্বর, লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, আঁচড়ের স্থানে লাল চাকা ইত্যাদি।
ফেলাইন প্রোটিন অ্যালার্জি: বিড়ালের লালা বা নখে লেগে থাকা প্রোটিন ত্বকে প্রবেশ করলে র্যাশ, চুলকানি হতে পারে।
দূষিত নখ: বিড়াল মাটি বা বর্জ্য খোঁড়াখুঁড়ি করলে নখে জীবাণু জমে, যা আঁচড়ালে ইনফেকশন হতে পারে।
- অ্যালার্জির লক্ষণ
- আঁচড়ের স্থানে লাল দাগ, ফোলাভাব, চুলকানি
- ফোস্কা বা পুঁজ তৈরি হওয়া
- শরীরে র্যাশ বা হাইভস
- জ্বর, ক্লান্তি বা লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া (গুরুতর ক্ষেত্রে)
- প্রতিকার ও চিকিৎসা
- প্রাথমিক পরিচর্যা: আঁচড়ের জায়গা সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে অ্যান্টিসেপটিক (বেটাডিন) লাগান।
- বরফ দিয়ে সেঁক দিন (ফোলা কমাতে)।
মেডিকেশন: অ্যান্টিহিস্টামিন (যেমন: সেটিরিজিন) চুলকানি কমাতে। ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনে অ্যান্টিবায়োটিক (ডাক্তারের পরামর্শে)।
প্রতিরোধ:
- বিড়ালের নখ নিয়মিত কাটুন।
- আঁচড়ানোর পর হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।
- অ্যালার্জি থাকলে বিড়ালকে বিছানা/সোফায় উঠতে দেবেন না।
- কখন ডাক্তার দেখাবেন?
- আঁচড়ের স্থান লাল, গরম ও পুঁজযুক্ত হলে
- জ্বর বা লিম্ফ নোড ফুলে গেলে
- র্যাশ সারতে ৩-৪ দিন সময় নিলে।
- বিড়ালের সাথে ভাল ভাবে থাকার টিপস
- বিড়ালকে রেগুলার গোসল করান (অ্যালার্জেন কমবে)।
- হাইপোঅ্যালার্জেনিক ক্যাট ফুড ব্যবহার করুন।
- বাড়িতে HEPA ফিল্টার ব্যবহার করুন (বাতাসের অ্যালার্জেন দূর করতে)।

বিড়ালের নখের আঁচড়ের জন্য করণীয়
বিড়ালের নখের আঁচড় একটি সাধারণ সমস্যা, তবে সঠিকভাবে চিকিৎসা না করলে এটি সংক্রমণ (Infection) বা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এখানে বিড়ালের আঁচড়ের প্রাথমিক চিকিৎসা, ওষুধ ও সতর্কতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. প্রাথমিক চিকিৎসা (First Aid)
ক. ক্ষত স্থান পরিষ্কার করুন
হালকা গরম পানি ও সাবান দিয়ে আঁচড়ের স্থান ধুয়ে নিন (কমপক্ষে ৫ মিনিট)।
অ্যান্টিসেপটিক (বেটাডাইন/হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড) লাগান।
খ. রক্তপাথ বন্ধ করুন
পরিষ্কার গজ/কাপড় দিয়ে হালকা চাপ দিন (রক্ত পড়া বন্ধ হলে ব্যান্ডেজ ব্যবহার করুন)।
গ. ব্যথা ও ফোলা কমানোর উপায়
বরফ লাগান (১০ মিনিট রাখুন, দিনে ৩-৪ বার)।
অ্যালোভেরা জেল বা ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করুন।
২. ওষুধ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা
ক. ব্যথানাশক ওষুধ
প্যারাসিটামল (ডোজ: ডাক্তারের পরামর্শে নিন)।
অ্যাসপিরিন/আইবুপ্রোফেন এড়িয়ে চলুন (রক্তপাত বাড়াতে পারে)।
খ. অ্যান্টিবায়োটিক
নিওস্পোরিন/ব্যাকিট্রাসিন অয়েন্টমেন্ট লাগান (সংক্রমণ রোধে)।
ডাক্তারের পরামর্শে ওরাল অ্যান্টিবায়োটিক নিন (লক্ষণ গুরুতর হলে)।
গ. প্রাকৃতিক সমাধান
হলুদ ও নারকেল তেলের পেস্ট (অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি)।
লবঙ্গ বা টি ট্রি অয়েল (১ ফোঁটা মিশ্রিত তেল লাগান, সরাসরি নয়)।
৩. কখন ডাক্তার দেখাবেন?
নিচের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরনাপন্ন হোন:
১।আঁচড়ের স্থান লাল, গরম ও পুঁজ হওয়া.
২।জ্বর বা কাঁপুনি আসা
৩।লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া (বগল/গলায়).
৪।১০-১৪ দিনের মধ্যে না সারা
৪. বিড়ালের আঁচড় থেকে কীভাবে বাঁচবেন?
১। বিড়ালের নখ কাটুন নিয়মিত।
২। খেলার সময় হাত সুরক্ষিত রাখুন (গ্লাভস ব্যবহার করুন)।
৩। বিড়ালকে অ্যাগ্রেসিভ হতে দেবেন না (খেলনা দিয়ে খেলুন)।
৪। রেবিস ভ্যাকসিন আপ টু ডেট রাখুন (বন্য বিড়ালের ক্ষেত্রে)।
বিশেষ সতর্কতা
গর্ভবতী, ডায়াবেটিক বা এইডস রোগীরা অতিসত্বর ডাক্তার দেখান (সংক্রমণ ঝুঁকি বেশি)।
বাচ্চাদের ক্ষত স্থান চেটে দেওয়া থেকে বিরত রাখুন।
বিড়ালের নখের আচরে কি সমস্যা হয় প্রতিরোধের উপায়
১. নিয়মিত নখ কাটুন
প্রতি ২-৩ সপ্তাহে একবার বিড়ালের নখ কাটুন।
বিড়ালের জন্য বিশেষ নেল ক্লিপার ব্যবহার করুন (মানুষের নেইল কাটার নয়)।
নখের সাদা অংশটি কাটবেন, গোলাপী অংশ (কুইক) এড়িয়ে চলুন (রক্তক্ষরণ হতে পারে)।
২. স্ক্র্যাচিং পোস্ট ব্যবহার করুন
বিড়ালরা স্বভাবতই নখ শার্পেনিং করে, তাই স্ক্র্যাচিং পোস্ট/বোর্ড দিন।
কার্ডবোর্ড, রশি বা কার্পেট দিয়ে বানানো পোস্ট ব্যবহার করতে পারেন।
বিড়ালকে স্ক্র্যাচিং পোস্টে ট্রেন দিন: যখন সে ফার্নিচার আঁচড়ায়, তাকে ধীরে ধীরে পোস্টের দিকে নিয়ে যান।
৩. নখে ক্যাপ (Soft Paws) লাগান
সফট ক্লোস বা নেল ক্যাপ বিড়ালের নখে লাগানো যায় (নিরাপদ ও নন-টক্সিক)।
এটি ৪-৬ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে এবং আঁচড় থেকে রক্ষা করে।
পশুচিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন কিভাবে সঠিকভাবে লাগাবেন।
৪. বিড়ালকে খেলার সময় সতর্ক থাকুন
- হাত বা পা দিয়ে খেলবেন না, তাকে টয় বা খেলনা দিন।
- যদি বিড়াল আঁচড়াতে চায়, “না” বলুন এবং খেলা বন্ধ করুন।
- খেলার পর বিড়ালকে ট্রিট দিন (গুড বিহেভিয়ার রিওয়ার্ড করুন)।
৫. বিড়ালকে স্ট্রেসমুক্ত রাখুন
- ভয় বা স্ট্রেসে বিড়ালরা বেশি আঁচড়ায়, তাই শান্ত পরিবেশ দিন।
- নতুন ব্যক্তি বা প্রাণীর সাথে ধীরে ধীরে পরিচয় করান।
- পর্যাপ্ত খেলার সময় ও আদর দিন।

বিড়ালের নখের আঁচড় কেন বিপজ্জনক হতে পারে?
বিড়ালের নখের আঁচড় শুধু ব্যথাদায়ক নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। নিচে বিস্তারিত কারণগুলো জানানো হলো:
বিড়ালের আঁচড়ের প্রধান ঝুঁকিসমূহ
১. ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ (Cat Scratch Disease – CSD)
ব্যাকটেরিয়া: Bartonella henselae নামক ব্যাকটেরিয়া বিড়ালের নখে থাকে।
লক্ষণ:
- আঁচড়ের স্থানে ফোলা, লাল দাগ, পুঁজ
- জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তি
- লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া (বগল/ঘাড়ে)
ঝুঁকি: শিশু ও দুর্বল ইমিউনিটি সম্পন্ন ব্যক্তিরা বেশি আক্রান্ত হয়।
২. টিটেনাসের ঝুঁকি
ময়লা বা মরিচা লাগা নখে আঁচড়ালে ক্লোসট্রিডিয়াম টিটানি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে।
লক্ষণ: পেশীতে খিঁচুনি, শক্ত হয়ে যাওয়া।
৩. অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন
বিড়ালের লালা বা নখের প্রোটিনে অ্যালার্জি থাকলে চুলকানি, ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
৪. গভীর ক্ষত ও দাগ
তীক্ষ্ণ নখে ত্বক ছিঁড়ে গিয়ে রক্তপাত বা স্থায়ী দাগ হতে পারে।
৫. রেবিজের সম্ভাবনা (বিরল)
রেবিজ আক্রান্ত বিড়ালের আঁচড়েও ভাইরাস ছড়াতে পারে (যদি লালা নখে লাগে)।
FAQ
১. বিড়ালের নখের আচরে কি সমস্যা হয়?
হ্যাঁ, বিড়ালের নখের আঁচড়ে সংক্রমণ, এলার্জি বা ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ (CSD) এর মতো সমস্যা হতে পারে।
২. বিড়ালের নখের আঁচড়ের প্রাথমিক সমস্যাসমূহ কী কী?
ব্যথা ও ফোলাভাব
রক্তপাত
লাল দাগ ও জ্বালাপোড়া
৩. বিড়ালের নখের আঁচড়ের মাধ্যমে কোন সংক্রমণ হয়?
ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ (CSD), টিটেনাস বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে।
৪. বিড়ালের নখের আঁচড়ের কারণে এলার্জি হয় কেন?
বিড়ালের লালা বা নখে থাকা প্রোটিনের কারণে কিছু মানুষের এলার্জিক রিঅ্যাকশন হতে পারে।
৫. বিড়ালের নখের আঁচড়ের জন্য করণীয় কী?
সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা
অ্যান্টিসেপটিক প্রয়োগ
ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া (সংক্রমণ হলে)
৬. বিড়ালের নখের আঁচড়ের প্রতিরোধের উপায় কী?
নখ কাটা রাখুন
বিড়ালকে খেলনা দিন
হঠাৎ করে বিরক্ত করবেন না
৭. বিড়ালের নখের আচরে কি সমস্যা হয়?
সংক্রমণ
জ্বর ও লসিকা গ্রন্থি ফোলা
এলার্জিক রিঅ্যাকশন
৮. বিড়ালের নখের আঁচড় কেন বিপজ্জনক হতে পারে?
গভীর আঁচড় বা দুর্বল ইমিউন সিস্টেম থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
৯. সব ক্ষেত্রেই কি বিড়ালের আঁচড় বিপজ্জনক?
না, সাধারণ আঁচড়ে সমস্যা হয় না, তবে সতর্ক থাকা ভালো।
১০. বিড়ালের আঁচড় লাগলে কী করবেন?
পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন
অ্যান্টিসেপটিক লাগান
ডাক্তার দেখান (লক্ষণ থাকলে)
১১. বিড়াল আঁচড় দিলে কি ভ্যাকসিন দিতে হয়?
সাধারণ আঁচড়ে না, তবে কামড় বা গভীর ক্ষত হলে রেবিজ বা টিটেনাস ভ্যাকসিন নিতে হতে পারে।
১২. বিড়াল কামড়ালে কত দিনের মধ্যে টিকা দিতে হয়?
রেবিজের টিকা ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেওয়া উচিত।
১৩. প্রাথমিকভাবে বিড়ালের আঁচড় দিলে কি করা উচিত?
ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে অ্যান্টিসেপটিক প্রয়োগ করুন।
১৪. বিড়ালে আঁচড় দিলে কি দোয়া পড়তে হয়?
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতস্থানে হাত রেখে দোয়া পড়া যায়।
১৫. বিড়ালের নখের আঁচড় থেকে ঝুঁকি কমানোর উপায় কী?
বিড়ালের নখ ছাঁটাই করুন
শিশুদের নজরদারিতে রাখুন
বিড়ালকে নিয়মিত গোসল করান
১৬. বিড়ালের নখের আচরে কি সমস্যা হয়?
আঁচড়ের স্থান সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন
অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম বা দ্রবণ প্রয়োগ করুন
ক্ষতস্থান পরিষ্কার ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখুন
লালভাব, ফোলাভাব বা ব্যথা বাড়লে ডাক্তার দেখান
১৭. বিড়াল কামড়ানোর কত দিনের মধ্যে টিকা দিতে হয়?
রেবিজ প্রতিরোধের জন্য টিকা কামড়ানোর ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে নেওয়া জরুরি। টিটেনাস ভ্যাকসিনও প্রয়োজন হতে পারে যদি গত ৫ বছরে না নিয়ে থাকেন।
১৮. বিড়ালের কামড়ের ভ্যাকসিনের নাম কি?
প্রধান ভ্যাকসিনগুলো হলো:
রেবিজ ভ্যাকসিন (HDCV বা PCECV)
টিটেনাস টক্সয়েড (TT)
ইমিউনোগ্লোবুলিন (RIG) গুরুতর ক্ষেত্রে
১৯. শিশু বা বাচ্ছাদের বিড়ালের নখের আচরে কি সমস্যা হয়?
বাচ্চা বিড়ালের নখেও ব্যাকটেরিয়া থাকে, তবে ঝুঁকি কম:
হালকা লালচেভাব দেখা দিতে পারে
সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রাপ্তবয়স্ক বিড়ালের তুলনায় কম
তবুও প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া উচিত
২০. বিড়ালের আঁচড়ে কি ভ্যাকসিন দিতে হয়?
সাধারণ আঁচড়ে ভ্যাকসিনের প্রয়োজন নেই, তবে যদি:
বিড়ালটি রেবিজ আক্রান্ত বলে সন্দেহ হয়
আঁচড় গভীর হয় এবং রক্তপাত হয়
রোগীর ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়
২১. বিড়ালের কামড়ে কি জলাতঙ্ক হয়?
হ্যাঁ, সম্ভাবনা আছে যদি বিড়ালটি সংক্রমিত হয়:
লক্ষণ: জ্বর, মাথাব্যথা, পেশীতে ব্যথা, জল ভীতি
বাংলাদেশে রেবিজের উচ্চ ঝুঁকি আছে
তাই কামড়ানোর পর অবশ্যই চিকিৎসা নিন
২২. বিড়াল কামড় দিলে কি ক্ষতি হয়?
কামড় আঁচড়ের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক:
গভীর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে
ব্যাকটেরিয়া (Pasteurella) সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি
হাড় বা জয়েন্টে সংক্রমণ ছড়াতে পারে
২৩. বিড়ালে আঁচড় দিলে কি দোয়া পড়তে হয়?
ইসলামিক বিধান অনুযায়ী:
ক্ষতস্থানে হাত রেখে সূরা ফাতিহা বা নিম্নোক্ত দোয়া পড়া যায়:
“বিসমিল্লাহি আরকি মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ’যিকা”
তবে চিকিৎসা নেওয়াও জরুরি
২৪. বিড়ালের নখের আঁচরে কি সমস্যা হয়?
হ্যাঁ, সম্ভাব্য সমস্যা:
ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ)
ফোলাভাব ও ব্যথা
এলার্জিক রিঅ্যাকশন (কিছু মানুষের ক্ষেত্রে)
২৫. বিড়ালের নখের আঁচরে কি জলাতঙ্ক হয়?
সাধারণত না, কারণ:
রেবিজ ভাইরাস প্রধানত লালায় থাকে
তবে যদি নখ লালায় ভেজা থাকে তখন ঝুঁকি থাকে
সন্দেহ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন
২৬. বিড়ালের নখের আঁচরে কি রোগ হয়?
হ্যাঁ, হতে পারে:
ক্যাট স্ক্র্যাচ ডিজিজ (জ্বর, লসিকা গ্রন্থি ফোলা)
ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন
টিটেনাস (দূষিত নখের মাধ্যমে)
২৭. বাচ্চাদের বিড়ালের নখের আচরে কি সমস্যা হয়?
বাচ্চা বিড়ালের ক্ষেত্রে:
নখে কম ব্যাকটেরিয়া থাকে
তবুও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়োজন
সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তার দেখাবেন
উপসংহার
বিড়ালের নখের আচরে কি সমস্যা হয়?—হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সঠিক পরিচর্যা ও সতর্কতা অবলম্বন করলে বিড়ালের নখের আচরে কি সমস্যা হয় তার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিড়ালকে যত্ন সহকারে রাখুন এবং স্বাস্থ্য সচেতন থাকুন।
এই আর্টিকেলটি পড়ে আশা করি আপনি বিড়ালের নখের আচরে কি সমস্যা হয় তার প্রাথমিক সমস্যাসমূহ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পেরেছেন